বাংলার কথা সাহিত্য 05 ------বাংলার অগ্নিকন্যা----

                                             বাংলার অগ্নিকন্যা মীরা দত্তগুপ্ত
    


মীরা দত্তগুপ্ত:-
ছাত্রবস্থায় বি.ভি নামের বিপ্লবী দলে যোগ দেন ব্রিটিশ বিরোধী অগ্নিকন্যা। 'বেণু' পত্রিকার মহিলা বিভাগের ভার ছিল ঠিক তারই ওপর। প্রায় সম্পূর্ণ কাজের দায়িত্বই ছিল তার ওপর। তার পর কিছুদিন তিনি দক্ষিণ কলকাতায় 'ছাত্রীসংঘের' সম্পাদিকাও ছিলেন। এরপরেও তিনি ছাত্র আন্দোলনের প্রকাশ্যে কাজ ত্যাগ করে, গুপ্ত বিপ্লবী দলের কাজে যোগ দেন।

১৯৩১ সালে দলের নির্দেশে তিনি বিদ্যাসাগর কলেজের ভাইস-প্রিন্সিপাল পদে যুক্ত ছিলেন। সেই সময় তার সমস্ত বেতন দলের কাজে লাগিয়ে দিতেন। শরৎকুমার দত্তগুপ্ত একজন সরকারি কর্মচারী ছিলেন। এই শরৎকুমার দত্তগুপ্তের কন্যা হলেন মীরা দত্তগুপ্ত। মীরা, গুপ্ত বিপ্লবী দলের কাজে যোগ দেন। তার পিতা বড় সরকারি কর্মচারী ছিলেন বলেই, পুলিশ বিশ্বাস করতে পারেনি যে তাদের বাড়িতে বিপ্লবী দলের গোপন ঘাঁটি ছিল। ১৯৩৩ সাল পর্যন্ত সেই বাড়িতে বিপ্লবীদের গোপন ইস্তাহার, জরুরি কাগজপত্র অস্বাদি লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।
১৯৩১ সাল থেকে ১৯৩৩ সাল পর্যন্ত যে সকল পলাতক বিপ্লবীদের আশ্রয় দিতেন ও বিপ্লবী গতিবিধির যোগসূত্র যাদের মাধ্যমে পরিচালিত হতো তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন মীরা দত্তগুপ্ত। শুধু এখানেই শেষ নয়, সে সময় মেদিনীপুর ও অন্যত্র কিভাবে বিপ্লবের কাজকর্ম করতে হবে। সেই বিষয়ে আলোচনা করার জন্য বরানগরে বিপ্লবীদের যে জরুরি বৈঠক ডাকা হয় তাতে মীরা দত্তগুপ্ত অংশ নেন। সন ১৯৩৩ সালে তাদের গোপন ঘাঁটি পুলিসের নজরে পড়ে যায়।
এরপর বার্জ-হত্যার মামলায় ধরপাকড় শুরু হয়ে যায়। মীরা দত্তগুপ্তের বাড়িতে বার বার তল্লাশি চালানো হয়, কিন্তু কিছুই পাওয়া গেলো না। ঠিক ১৯৩৪ সালে অ্যান্ডারসনকে গুলি করা হয়। দার্জিলিং এর লেবং এর মাঠে ভবানী ভট্টাচার্য অ্যান্ডারসনকে গুলি করেন। ভবানী ভট্টাচার্য ও উজ্জ্বলা মজুমদার সহ অন্যান্য বিপ্লবীদের গ্রেপ্তার করা হয়। সেই দলের কর্মী মীরা দত্তগুপ্তকে ইলিসিয়াম রো-তে নিয়ে যায় পুলিশ। তাকে নানা ধরনের প্রশ্ন করা হয় সেখানে।
মীরা দত্তগুপ্তের বাবাকে পুলিশ জানায় -- মেয়েকে বাংলাদেশের বাইরে কোথাও নিয়ে যেতে। বিপ্লবী দলের নির্দেশে মীরা তার বাবার কথা মেনে নেয়। তিনি প্রায় দুই (২) বছর বাংলাদেশের বাইরে কাঠান। ফিরে আসার পর ১৯৩৭ সাল থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত তিনি দুবার বিধানসভার সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৪২ সালের আন্দোলনেও তিনি কর্মলিপ্ত ছিলেন এবং অর্থ সংগ্রহ করে বিপ্লবী সতীর্থদের হাতে তুলে দেয়।
সন ১৯৪৬ সালে জেল থেকে বেরিয়ে মীরা ফরওয়ার্ড ব্লক এর সদস্য হন। দাঙ্গাপীড়িতদের সেবা, দুর্ভিক্ষে, বন্যায়, আর্তত্রানকল্পে, বাস্তহারাদের সাহায্যে তার সংগঠন মূলক কাজের অবদান অনেক। শেষে ১৮ ই জানুয়ারি ১৯৮৩ সালে মীরা দত্তগুপ্ত তার শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

মীরা দত্তগুপ্তের জন্ম হয়েছিল ৫ ই অক্টোবর ১৯০৬ সালে ঢাকা শহরে। তার পিতার নাম ছিল শরৎকুমার দত্তগুপ্ত। ১৯৩০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অঙ্কশাস্ত্রে এম.এ পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণীতে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন।

Post a Comment

Previous Post Next Post